Posts

Showing posts from November, 2019

দুপুরের মেঘ

সদ্য এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে ৷ আকাশে এখনও মেঘ ৷ ব্যাগে দেখছি ছাতা নেই ৷ অফিস থেকে বেরিয়ে  কিংকর্তব্যবিমূঢ় কয়েক সেকেন্ড কাটিয়ে শেষে হাওড়াগামী একটা বাসে উঠে পড়লাম | বাসায় না গিয়ে ভাবছি সোজা দেশের বাড়ি যাব ৷  আমার চাকরিটা আজ গেল । বেশ সুখের চাকরি ছিল ৷ আলসেমির জন্যই গেল ৷ উপরি হিসেবে ছিল রুমের বাকী দশ বারোজনের সামনে অপমান ৷ বস গালাগালি দেননি  I বেশ সহানুভূতির সঙ্গে , এটা ঠিক আমার লাইন নয়, অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমি নিশ্চয়ই উন্নতি করব ইত্যাদি বলে তারপর ছাঁটাই ৷ আমি যতক্ষনে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে অাসছি ততক্ষনে সবার চোখে করুনা ।  এটাতেই সবচেয়ে বেশী অপমানিত লাগছিল ৷  দুপুর বেলা এ সময়টা বাস ফাঁকা ৷ নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল ৷এত দিন যাদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা কেউ একটা কথাও বলেনি আমার হয়ে ৷ ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব না থাকলেও এদের সঙ্গে সৌজন্যের সম্পর্ক ছিল ৷ অবশ্য শুধু সৌজন্যের সম্পর্কে আর এর বেশী কী বা আশা করা যায় ! পাশের টেবিলের লাবনী একটু দুঃখী মুখে তাকিয়ে ছিল ৷ একজন প্রায় অসম্পর্কিত মানুষের জন্য  সামান্য দুঃখ ৷  আমার মনের ভেতরে লাবনীর জন্য বিশে...

বেচারা

আমার সঙ্গে বিনয়ের শেষ দেখা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে , আমি সেদিন একটু তাড়াতাড়ি দোকান থেকে ফিরছি , বর্ষার রাত, বাড়িতে কৃষ্ণা আর বনি একা আছে, সেই ভেবেই একটু তাড়াতাড়ি দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে , সবে সাইকেলে উঠে হাত দশেক এসেছি, এমন সময় পাশের সুড়কির রাস্তা থেকে বিনয় বেরিয়ে এসে "এই দাঁড়া দাঁড়া " বলে পিচ-রাস্তায় দাড়িয়ে গেল | অবাক হলাম, জিজ্ঞাসা করলাম "কী ব্যাপার ?" "তুই ভাল আছিস তো ?" রাস্তায় ব্যাস্ত ভাবে সাইকেল থামিয়ে কেউ কুশল প্রশ্ন করেনা | আমি বিনয়কে অনেক দিন চিনি , বিনয় মানুষ খারাপ না, কিন্তু ও একটু এই রকম, কখন কী বলতে হয় সে সেন্সটা ওর চিরদিনই গোলমেলে | আমি কেমন আছি সে কৌতুহলে নয়, ওর কোনো দরকারেই আমাকে থামিয়েছে, এবং বুঝলাম, সেটা বলতে ও দ্বিধা করছে |  বেচারা !  নেমে বললাম "কী দরকার বলতো ?" "তুই তো মাল করতে কলকাতা যাস, আমার একটা কাজ করতে পারবি ?" "কী কাজ ?" "একটা বই আনতে হবে , ইয়ে ..মানে গল্পের বই " বিনয়ের তখন মাস দুয়েক হল বিয়ে হয়েছে , সন্দেহ হল আমাকে দিয়ে সচিত্র কামসূত্র বা ওই জাতীয...

হেঁটে যাই আমরা

সকাল সকাল যখন কেউ-কোত্থাও-নেই ভাবটা সবে দানা বাঁধতে শুরু করেছে তখনই, মন্টুর ফোনটা এল | খুব বিরক্ত লাগল আলমের | সকালের এই সময়টা সে ভালবাসে | টয়লেট পায় বলে ঘুম ভাঙে সকাল সকাল | টয়লেট থেকে ফিরে আলম বিছানায় বসে, ভাবতে শুরু করে, সে হঠাৎ মরে গেলে পৃথিবীতে কে কে কষ্ট পাবে | একটা গভীর একাকীত্ব বোধ আসে , চমৎকার একটা মাদকীয় অনুভূতি |  ফোনটা ধরতেই মন্টুর  ফ্যাস ফ্যাসে কাশি শোনা গেল | একটা ঘুম ঘুম ভাব গলায় এনে আলম বলল "হ্যালো, কে ?" "মন্টুদা বলছি | আমার নাম্বার ফোনে তুলে রাখিস নি ?" গলায় ঘুম জড়ানো ভাবটা আরও দশ শতাংশ বাড়িয়ে দিল আলম , "হ্যাঁ ম-ন্টু-দা ব-ল ৷ " "কালকের হিসেবে ৭২০ টাকার ঘাপলা হচ্ছে , মালিককে দেখাবার আগে সেটা ক্লিয়ার করতে হবে |" "আমার হিসেবে ভুল হয়না ৷ ভাল করে হিসেব কর আরেকবার, তারপর মিললে ফোন করে জানিও, এবারে পুরো হিসেবটা ক্যালকুলেটারে করবে |"  পরিষ্কার গলায় কেটে কেটে এবারের উত্তরটা দিল আলম | এটাই প্রথমবার না এর আগেও হিসেবে ভুল করে ফোন করেছে মন্টুচন্দর | মাধ্যমিকে অঙ্কে একচল্লিশ পাওয়া লোককে ফুড ডেলিভারী সেন্টারের ম্যানেজা...

সুপরিচিতা

দরজার দিকে চেয়ে বসে ; ওই দরজা দিয়ে একটি মেয়ে ঢুকবে, কাউন্টার থেকে খাবারের ট্রে নিয়ে আমার ঠিক সামনের চেয়ারটার পাশের চেয়ারে এসে বসবে ৷ কৌতুক ও কৌতুহল চোখে সুন্দরী মেয়েটি , তারই প্রতীক্ষা করি ৷ দুমাস ধরে সপ্তাহে গড়ে তিন চারবার ক্যান্টিনে আসার টাইমিং মিলে গেলে এই চলে ; মেয়েটি আগে এলে আমি এগিয়ে যাই হিসেব করে সামনের চেয়ারটির পাশেরটি দখল করি ৷ নিলাজভাবে চোখ মেলি , চোখাচোখি হয়ে যায় ৷ এই চোখ চাওয়া সুন্দরের প্রতি টানই শুধু নয়, সুন্দর বলে মনে করি এ জানানোর চেষ্টাও ৷ কখনও চোখ আমি আগে নামাই , কখনও মেয়েটি ।  এত দিনে একটা কথাও হয় নি , দুদিকেরই ধৈর্য্য বা লজ্জা অসীম ৷ নিজের এই লজ্জাবনতার কারন জানি । কারন ভয় । ফিটফাট সেজে থাকি ৷ আসলে এই বিরাট কোম্পানিটির চারতলার একটি বিরাট আপিসে আমি মামুলী গ্রুপ ডি কর্মচারী । মেয়েটির আপিস কোন তলায়, কী করে , জানি না ৷ দেখে সন্দেহ হয় মেয়েটি রিসেপসানিষ্ট বা টাইপিষ্ট নয়, অফিসার র‍্যাঙ্ক , যাদের আজকাল আমি ম্যাডাম বলি ভদ্রতায় নয়, সমীহে  ৷ এখন যদি হঠাৎ এক দিন ঠিক সামনের টেবিলটা দখল করে বসে হাসি , কথা বলি, আমার শ্রেনীপরিচয় ...